দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]
সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি। ঘটনাটি সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তাসংস্থা এপি বলছে, সোমবার (১৩ জুলাই) সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের হামলার জবাব হিসেবে একইদিন আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে হুথিরা জানিয়েছে। তবে এ হামলায় এখনও কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া ইয়েমেনে হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেননি।
এদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর থেকে অবরোধ তুলে না নেয়া পর্যন্ত এ সতর্কবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।’
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এর আগে জানিয়েছিল, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার উদ্দেশ্য ছিল একটি ইরানি বিমানকে সেখানে অবতরণ করতে বাধা দেয়া। তবে ওই হামলার প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করে হুথিরা। তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে এটিই প্রথম বড় ধরনের উত্তেজনা।
অন্যদিকে, সোমবার বিকেলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের রাজনৈতিকবিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি বলেন, ‘ইয়েমেন এবং পুরো অঞ্চল আরেক দফা সংঘাতের সামর্থ্য রাখে না। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আলোচনায় গঠনমূলকভাবে অংশ নেয়ার জন্য আমরা সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
মূলত দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলভিত্তিক সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট উত্তরাঞ্চলে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। এর আগে সোমবার টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি আরবের বিমান হামলার মাধ্যমে ‘উত্তেজনা কমানোর সময়ের সমাপ্তি’ ঘটেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই আগ্রাসনের জবাব দেয়া হবে এবং শাস্তি পেতে হবে’। পরে দেয়া আরেকটি বার্তায় সারি বলেন, সানার হামলার লক্ষ্য ছিল রোগী ও আটকে পড়া মানুষদের বহনকারী মানবিক ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা ও উত্তর ইয়েমেনের বড় অংশ দখল করার পর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এরপর সরকার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। পরের বছর সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরাতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই জোটে সংযুক্ত আরব আমিরাতও (ইউএই) ছিল।
সূত্র: এপি
কেএম